
স্টাফ রিপোর্টার,সারোয়ার হোসেন:রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার শাহিন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে আসা বহিরাগত মোটরসাইকেল চালকদের বেধড়ক পিটিয়েছে স্থানীয়রা বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন মারপিটের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ করে দেয়া হয় তেল সরবরাহ। পরে পুলিশ পাম্প কর্তৃপক্ষ ও ট্যাগ অফিসারের একান্ত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শুরু হয় তেল বিতরণ কার্যক্রম। কিছুক্ষণ পরে পুনরায় শুরু হয় হট্টগোল। পুলিশ লাঠি পেটা করে দুষ্কৃতকারীদের সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় তেল সরবরাহ করা হয়। এভাবেই সকাল থেকে দিনভর হট্টগোল মারপিটের মধ্যে তেল সরবরাহ করা হয়। ভিঢিওতে দেখা যায়, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে জেলা যুবলীগ নেতা মুন্ডুমালা বাজারের বাসিন্দা আবু রায়হান তপন, বাস মাস্টার হবিবুর, ফয়সাল সহ তাদের নেতৃত্বে তানোর সদরের বাইক চালকদের বেধড়ক পেটায়। ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে আরো দেখা যায় যুবলীগ তপন বলছে ধর মার, তাদের কে কোন তেল দেয়া হবে না, তারা তানোর থেকে কেন তেল নিতে আসবে, তাদের লাঠি পেটা করে তাড়িয়ে দাও। ঘন্টাব্যাপী চলে মারপিট। এতে বেশকিছু বাইক চালক আহত হয়। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও সুত্র নিশ্চিত করেন। পাম্পে ছিলেন মালিক মোজাম্মেল হক তিনি জানান, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। এখানে ধৈর্য তেল নিতে হবে। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রাস্তার হট্টগোল শুরু হয়। পরে সবার প্রচেষ্টা পরিবেশ স্বাভাবিক হয় এবং তেল বিতরণ শুরু করা হয়। ট্যাগ অফিসার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, ফিলিং স্টেশনের ভিতরে হট্টগোল হয়নি। সুষ্ঠু ভাবে তেল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রথমে ৫০০ টাকা করে তেল দেয়া হচ্ছিল। পরে কমিয়ে ৩০০ টাকার করে বাইকপ্রতি তেল দেয়া হয়। কারন তখনও লম্বা লাইন। গত মঙ্গলবার চৌবাড়িয়া ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণের সময় দফায় দফায় মারপিট হয়। বন্ধ হয়ে যায় মুল রাস্তা। প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয়। বািক চালকরা বন্ধ করে দেয় রাস্তা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাঈমা খান সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে গাড়ির কাগজ পত্র ও ডাইভিং লাইসেন্স চেক করে তেল দেয়া শুরু করে। জনসাধারণের ভাষ্য, শুধু তানোর না দেশের যে ফিলিং স্টেশনে তেল দেয়া হচ্ছে সেখানেই মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। আবার অনেকে ৫০০ টাকার তেল নিতে এসে ২০০ টাকার তেল নেয়ার পরে ট্যাংকি দিয়ে তেল পড়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন না থাকার পরেও তেল নিচ্ছে বাইক চালকরা। তেল দেয়ার ২৪ ঘন্টা আগ থেকে লাইন শুরু হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার লবা লাইনের কারনে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সরকার বলছে তেলের কোন ঘাটতি নেই। আতঙ্কিত হয়ে বাইক চালকরা প্রয়োজন না থাকলেও তেল নিচ্ছে। আবার অনেক বাইক চালক তেল নিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। এসব কারনে দীর্ঘ লাইন।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ নির্বাহী সম্পাদক: টিপু সুলতান, বার্তা সম্পাদক: হাফিজুল ইসলাম, রাজশাহী অফিস: রাণীবাজার, অলোকার মোড়, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী। মোবাইলঃ ০১৭৬১-৮৯৯১১৯, ০১৭৬২-৬৯৬২৭০ ই-মেইল: jonotarsomoy24@gmail.com
Copyright © 2024 জনতার সময় 24. All rights reserved.