
স্টাফ রিপোর্টার:জ্বালানি সংকটের কারণে কমেছে ধানের দাম, যার কারণে বহিরাগত শ্রমিকরা আসছেনা ধান কাটতে। রাজশাহীর তানোরে বিল পাড়ে পাকা ধান জমিতে ভরপুর। শ্রমিক সংকটে সেই ধান কাটতে পারছে না বিলপাড়ের কৃষকরা। এতে করে কৃষকের রক্ত ঘামের সোনালি ফসল যেন গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে। আবার গত সপ্তাহে ঝড় বৃষ্টির কারণে বিলের নিচু জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। চলছে বৈশাখ মাস, বিরাজ করছে তীব্র তাপ প্রবাহ, সাথে রয়েছে ভ্যাবসা গরম। ফলে শ্রমিকের জন্য হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে।কৃষকরা জানান, বিলের জমির ধান পেকে গেছে। ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ধানের দাম নাই। এক মণ ধান বেঁচে একজন শ্রমিকের খরচ উঠছে না। ধান কাটার মুল ভরসা বহিরাগত শ্রমিকরা। কিন্তু দাম না থাকার কারণে শ্রমিকরা এখনো আসেনি বা আসতে চাচ্ছে না। আবার ধান কাটার পর ট্রলিতে করে রাস্তায় আনা হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রলিও নেই। পাকা ধান নিয়ে মহা যন্ত্রণায় পড়তে হচ্ছে। যেন ধানের আবাদ অভিশপ্ত হয়ে পড়েছে।কৃষক শাকির জানান, কয়েকদিন ধরে ধান কাটা শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের দাম না থাকার কারণে শ্রমিকরা ধান কাটতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। শ্রমিকরা ধান কাটলেও বহন করতে চায়না। গাড়ি করে বহন করা হয়। কিন্তু তেল না পাওয়ার কারণে গাড়ি বন্ধ। বৈশাখ মাস। যে কোনো সময় ঝড় বৃষ্টি হলে পাকা ধানের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়বে।সাহেব নামের আরেক চাষি জানান, বিগত বছরগুলোতে ধান কাটার আগেই শ্রমিকরা জমি দেখে যেত, কখন কাটা হবে, এজন্য কখন আসতে হবে। কিন্তু এবারের চিত্র পুরোটাই উল্টো। ধান পেকে গেছে কাটার সঠিক সময়। কিন্তু শ্রমিক মিলছে না। আবার তীব্র তাপমাত্রা শুরু হয়েছে। বিলের নিচু জমির প্রায় ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। মাটিতে নুয়ে পড়লে কাটতে চাইনা শ্রমিকরা। কাটলেও দ্বিগুণ খরচ হয়।সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চান্দুড়িয়া ইউপির, দমদমা, গাগরন্দ, হাড়দহ, জুড়ানপুর, তানোর পৌর এলাকার কৃষকের বেশির ভাগ বোরো জমি বিলে রয়েছে। কালীগঞ্জ, মাসিন্দা, হাবিবনগর, বুরুজ, ভদ্রখন্ড, কাশিম বাজার, জিওল, চাদপুর, আমশো, মথুরাপুর, সরকারপাড়া,তাতিয়ালপাড়া, গোল্লাপাড়া, হলদারপাড়া, তানোর পাড়া, কুঠিপাড়া, হিন্দুপাড়া, গুবিরপাড়া, সিন্দুকাই, ধানতৈড়, চাপড়া, গোকুল, মথরাপুর, তালন্দ কলেজ পাড়া, বেলপুকুরিয়া, বাহাড়িয়া, সুমাসপুর, হরিদেবপুর, লবিয়তলা ব্রীজের পশ্চিমে, উত্তরে, পূর্বে, দক্ষিণে, কামারগাঁ ইউপির, হাতিশাইল, বারোঘরিয়া, হাতিনান্দা, কামারগা, কচুয়া, দমদমা, মজুমদারপাড়া, শ্রীখণ্ডা,কৃষ্ণপুর, বাতাসপুর, পারিশো, দূর্গাপুর, মাড়িয়া, মাদারিপুর, ভবানিপুর, জমসেদপুর, বিহারইল, মালশিরা, ধানোরা, চককাজিজিয়া, মালশিরা, কলমা ইউপির কুজিশহর, চন্দবকোঠা। মুলত এসব গ্রামের নিচে বিলকুমারী বিলের জমির অবস্থান। প্রায় জমির ধান পেকে গেছে। বিলের উচু এলাকার জমির ধান খাড়া হয়ে আছে। নিচু এলাকার প্রায় জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে।তালন্দ এলাকার কৃষক আমিনুল, আরশাদ, সহ অনেকে জানান, ধানের চাষাবাদ করা যাবেনা। সারের সংকট, জালানির সংকট, দামে ধস, শ্রমিক সংকটে ধান কাটা যাচ্ছে না। একমন ধানের দাম ৮০০/৯০০ টাকা। অথচ সারা দিন একজন শ্রমিকের মূল্য দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা করে। আবার পাকা ধানে ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে পাতাপোড়া বা বিএলবি রোগ। এরোগের কারণে ধান চিটা হয়ে পড়ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ নির্বাহী সম্পাদক: টিপু সুলতান, বার্তা সম্পাদক: হাফিজুল ইসলাম, রাজশাহী অফিস: রাণীবাজার, অলোকার মোড়, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী। মোবাইলঃ ০১৭৬১-৮৯৯১১৯, ০১৭৬২-৬৯৬২৭০ ই-মেইল: jonotarsomoy24@gmail.com
Copyright © 2024 জনতার সময় 24. All rights reserved.