
সারোয়ার হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দলবেঁধে শ্লীলতাহানি ও মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন থানার (ওসি)এস.এম মাসুদ পারভেজ। এঘটনায় ওই পরিক্ষার্থীর মা বাদি হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৪ম) থানায় ৯জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলেন, আরাফাত হোসেন(১৯), তার বাড়ি কামারগাঁ ইউপির মালশিরা গ্রামে, সে বাবু ইসলামের পুত্র, হিমেল ইসলাম (২৮),সে মালশিরা গ্রামের হেরাজ উদ্দিনের ছেলে, জুয়েল ইসলাম(২৭) সে মাড়িয়া গ্রামের জিয়ার উদ্দিনের পুত্র, মালশিরা গ্রামে সবুজ ইসলাম (১৭) সে রহিম মিস্ত্রির ছেলে, একই গ্রামের নাইম(২৫) সে মোজামের ছেলে, ফয়সাল(২৬) সে আজহার আলীর পুত্র, বাবু আজাদ (২৭), তানোর পৌর এলাকার কাশিমবাজারের (২৪), আমশো গ্রামের রিদয়(২০)।তবে মামলার তিনদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এজহারভুক্ত বা অজ্ঞাতনামা কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যার কারনে মামলার বাদীসহ ভিকটিম চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে পুলিশের দাবি। তানোর থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এজহারভুক্ত সহ অজ্ঞাতনামা আসদমীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। আসামীরা কেউ নিজ বাড়ি বা এলাকায় নেই। সবাই আত্মগোপনে চলে গেছে। আমি নিজে অভিযান পরিচালনার জন্য বা আসামীদের আটকের জন্য কাশিম বাজারে অবস্থান করছি। যে ভাবেই হোক আসামীরা ছাড় পাবেনা। পুলিশ তাদের আটক করেই ছাড়বে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ম) তানোর পৌর এলাকার কাশিম বাজারে অবস্থিত টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হন ওই পরিক্ষার্থী। বের হয়ে ভ্যানে উঠে বাড়িতে যাওয়ার জন্য। এসময় বখাটেরা ওই পরিক্ষার্থীর হিজাব, বোরখা টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে পেটায়। স্থানীয় ও পরিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। কাশিম বাজার থেকে ওই পরিক্ষার্থী অভিভাবকদের নিয়ে থানায় এসে এজহার দায়ের করেন। এছাড়াও ওই পরিক্ষার্থীকে মারপিটের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে সাক্ষাতকার দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্ত মুলুক শাস্তি দাবি করেন। স্থানীয়রা জানান, তরুন সমাজ আজ বিপদগামী হয়ে পড়েছে। একজন পরিক্ষার্থী তাদের কাছ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তার হিজাব ও বোরখা প্রকাশ্যে খুলে ফেলছে। এর চেয়ে ঘৃণিত ঘটনা আর কি হতে পারে। প্রায় সময় ছাত্রীরা এধরনের ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। কেউ চোখ লজ্জার ভয়ে চেপে যাচ্ছে। আর কেউ প্রতিবাদ করলে পরবর্তী তে নানা ভাবে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। আবার সমাজেও নানা কথা শুনতে হয় ভুক্তভোগীদেরকে। আগামীর ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু মাদক ও ডিজিটাল ফাঁদে পড়ে নৈরাজ্যের পথে তরুন সমাজ। শুধু এখানেই শেষ না বালিকা স্কুল ও কোচিং সেন্টারের আশপাশে তরুণ বখাটেরা নিয়োমিত শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছে। এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন কে কঠোর হতে হবে। যারাই এধরণের ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে চরম শাস্তি দিতে হবে। নইলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা আসবে না। এঘটনায় তালন্দ বাজার, কাশিমবাজার ও চৌবাড়িয়া বাজারে দফায় দফায় মারপিট হয়েছে। সুতরাং কোনভাবেই যেন অপরাধীরা ছাড় না পায়। যে ভাবেই হোক গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মুলুক শাস্তি দিতে হবে। তাহলে হয়তো এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। আর কোনভাবেই ছাড় পেলে ভিকটিমের পড়ালেখা করা কষ্টকর হয়ে পড়বে। ওই পরিক্ষার্থী জানান, আমি পরিক্ষা দিয়ে বের হবার পর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ভ্যানে উঠি। এসময় আসামীরা আমার হিজাব বোরখা টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে বাশের লাঠি দিয়ে পেটায়। আমি কোন রকমে তাদের হাত থেকে উদ্ধার হয়ে থানায় আসি। আমার সাথে প্রকাশ্যে দিবালোকে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চরম শাস্তি দাবি করছি। এদিকে গত (১২ মে) মঙ্গলবার তালন্দ এএম উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হলে এক পরিক্ষার্থীকে উত্যক্ত করে তরুণ বখাটেরা। এঘটনায় ওই পরিক্ষার্থীর ফুফাতো ভাই বাধা দিলে মারপিট করে বখাটেরা। এঘটনার জের ধরে পরদিন বুধবার সকালের দিকে চৌবাড়িয়া বাজারে সবুজের হার্ডওয়ারের দোকানে থাকা রনিকে মারপিট করে। এঘটনায় কুজিশহর গ্রামের শাকিল বাদি হয়ে জুয়েল হোসেন (২৮), হিমেলসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতনা বলে মনে করছেন বাদী। যার কারনে গত বৃহস্পতিবার পরিক্ষার্থীকে পিটিয়ে শ্লীলতাহানি ঘটায় বখাটে তরুণরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ নির্বাহী সম্পাদক: টিপু সুলতান, বার্তা সম্পাদক: হাফিজুল ইসলাম, রাজশাহী অফিস: রাণীবাজার, অলোকার মোড়, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী। মোবাইলঃ ০১৭৬১-৮৯৯১১৯, ০১৭৬২-৬৯৬২৭০ ই-মেইল: jonotarsomoy24@gmail.com
Copyright © 2024 জনতার সময় 24. All rights reserved.