
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :রাজশাহীর তানোরে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার বাঁধাইড় ইউনিয়ন ইউপির বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সে নানা অজুহাতে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট দিয়ে থাকেন। টাকা ছাড়া কোন সার্টিফিকেট দেননা বলেও একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নিশ্চিত করেন।এঘটনায় গত বৃহস্পতিবার হুমায়ন নামের এক অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন।ফলে প্রধান শিক্ষকের এমন সার্টিফিকেট বানিজ্যে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবক মহল। শুধু বহরইল স্কুলে না প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা নানা অজুহাতে সার্টিফিকেট বানিজ্য করে থাকেন। যা সরেজমিনে তদন্ত করলেই বেরিয়ে পড়বে। অথচ এটাকা আদায়ের নিয়ম নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তারা বিষয়টি অবগত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন না।অভিযোগে উল্লেখ, গত ২০২৪ সালে হুমায়নের ছেলে সাহারিয়ার হোসেন শিশির বহরইল বরেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। সে এসএসপি পাশের সার্টিফিকেট নিতে গেলে প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান ৮০০ টাকা দাবি করেন।হুমায়ন জানান, সার্টিফিকেট নিতে কেন ৮০০ টাকা লাগবে বা দিতে হবে প্রধান শিক্ষক কে বলা হলে তিনি সাব জানিয়ে দেব সার্টিফিকেট নিতে হলে ৮০০ টাকা দিতেই হবে। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বহরইল স্কুলে দীর্ঘ দিন ধরে সার্টিফিকেট বানিজ্য করে আসছে প্রধান শিক্ষক। এসএসপি পাশের সার্টিফিকেট নিতে গুনতে হয় ১ হাজার টাকা থেকে তার ঊর্ধ্বে। নিম্মে হলেও ৮০০ টাকা দিতেই হবে প্রধান শিক্ষক কে। একই ভাবে জেএসসি বা অষ্টম শ্রেণির সার্টিফিকেট নিতেও সমপরিমাণ টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া কোন সার্টিফিকেট দেয় না প্রধান শিক্ষক। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত সার্টিফিকেট হয়না। ২০০ থেকে ৪০০ টাকা দিলেও সার্টিফিকেট দেয়না প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান।অভিভাবকরা জানান, উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে বহরইল স্কুল। বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষি নির্ভর। একজনের সার্টিফিকেট নিতে একমন ধান বিক্রি করা লাগছে। দরিদ্র ঘরের ছেলে মেয়েরা বেশির ভাগ স্কুলে পড়ালেখা করে থাকে। যেখানে সার্টিফিকেট নিতে কোন টাকা নেয়ার নিয়ম নেয়। তারপরও টাকা আদায় করছেন প্রধান শিক্ষক। আবার এটাকার কথা অন্য শিক্ষকরা কেউ কিছুই জানেনা। প্রধান শিক্ষক নিজের খেয়াল খুশিমত সবকিছু করে থাকে।প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুলের উন্নয়নের জন্য ৩০০ টাকা করে সার্টিফিকেট প্রতি নেয়া হয়। প্রায় স্কুলে সার্টিফিকেট দিয়ে টাকা নিয়ে থাকে। এটাকা দিয়ে কি উন্নয়ন হয়েছে ও ৩০০ টাকা না ১ হাজার টাকা নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদ উত্তর না দিয়ে পরে কথা বলা হবে বলে এড়িয়ে যান।মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার সায়মা আঞ্জুমান জানান, আমার কাছেও একজন এবিষয়ে অভিযোগ করেছে। আগামী সপ্তাহে প্রধান শিক্ষক কে ডাকা হবে। তিনি আরো জানান, টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই তবে ওই স্কুলে নাকি টিউশন ফি আদায় করেনা এজন্য সার্টিফিকেট দেয়ার সময় ৩০০ টাকা করে নেয় বলে আমাকে অবহিত করেছে। সার্টিফিকেট দেয়ার নামে টাকা নেয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান কোন নিয়ম নেই।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ নির্বাহী সম্পাদক: টিপু সুলতান, বার্তা সম্পাদক: হাফিজুল ইসলাম, রাজশাহী অফিস: রাণীবাজার, অলোকার মোড়, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী। মোবাইলঃ ০১৭৬১-৮৯৯১১৯, ০১৭৬২-৬৯৬২৭০ ই-মেইল: jonotarsomoy24@gmail.com
Copyright © 2024 জনতার সময় 24. All rights reserved.