বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে তানোর সাংবাদিক ক্লাব পরিবারের নৌকা ভ্রমণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তানোরে নিজ রড-সিমেন্টের দোকানে যাওয়ার পথে নিখোঁজ মিজানুর রহমান বাদশা,উৎকণ্ঠায় পরিবার! তানোরে ইউএনও মাঠতৎপরতায় এলাকাবাসীর প্রশংসায় নাঈমা খান তানোর বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ সাংবাদিকদের নিপীড়নের হাতিয়ার হবে না সাইবার সুরক্ষা আইন রাজশাহী ও নাটোর ২৩ পৌরসভার একটিরও ভাগাড় নেই, বর্জ্য ফেলা হয় যেখানে–সেখানে তানোরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি,তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়ক এখন মরণফাঁদ

তানোরে রাস্তার কাজ ফেলে লাপাত্তা, ঠিকাদারের কাছে জিম্মি এলজিইডি

Reporter Name / ২
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:রাজশাহীর তানোরে রাস্তার কাজ ফেলে নানা অজুহাতে লাপাত্তা ঠিকাদারেরা বলে অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ করতে একাধিক বার তাগাদা দিলেও কর্নপাত করছেন ঠিকাদারেরা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। ফলে ঠিকাদারদের কাছে চরম ভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলজিইডি অফিস। রাস্তার কাজ ফেলে রাখার কারনে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন পথচারীসহ যান চালকরা।একাধিকবার তাগাদা দিয়ে চিঠি দেয়ার পরও কোন ভাবেই কাজ শুরু করছেনা ঠিকাদার। অবস্থাটা এমন অফিসের কোন কথায় কর্নপাত না করে উল্টো অফিস ঘেরাও সহ নানা হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে কর্মকর্তাদের। ফলে কর্তৃপক্ষ কাজ শেষ করা নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন। আবার অনৈতিক সুবিধা পেয়ে অনেক সময় নিরবতা পালন করছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা গেছে, উপজেলায় গ্রামীণ পর্যায়ে প্রায় সাত থেকে আটটির মত রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয় এক বছর আগে। আবার কোন কোন টা তার আগেও শুরু হয়েছিল। কয়েকটি রাস্তা প্রায় ছয় মাস থেকে বছর ধরে পড়ে আছে। জিওবি মেন্টেনেন্স প্রকল্পের কাজগুলো করছেন শহরের প্রভাবশালী ঠিকাদার মামুন। তিনি বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার প্রায় রাস্তার কাজ কিনে নেয়। অগ্রিম পনের থেকে বিশ পারসেন্ট লাভ দিয়ে কাজগুলো কিনে একেবারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে শুরু করেন। প্রথমে ট্যাক্টর দিয়ে রাস্তা উল্টিয়ে ফেলা হয়। উল্টিয়ে পুরাতন খোয়া, পাথর দেয়া হয়। নামমাত্র বালু দিয়ে লোক দেখানো রোলার মারা হয়।রাস্তার দুপাশে নতুন ইট দিয়ে এজিং করার কথা থাকলেও পুরাতন ইট ও বালুর বিপরীতে মাটি দিয়ে এজিং করা হয়েছে। এভাবেই প্রায় সাত আটটি রাস্তার কাজ ফেলে লাপাত্তা হয়েছেন ঠিকাদারেরা। অথচ তারা প্রতি নিয়তই এলজিইডি অফিসে আসছেন, কর্তার সাথে খোশমেজাজে গল্প আড্ডা দিচ্ছেন, চা পান করছেন, আবার চলেই যাচ্ছেন। কিন্তু কাজ করা হচ্ছে না।স্থানীয়রা জানান, রাস্তার কাজের কোন অভিভাবক নাই। যদি থাকত তাহলে এত দিন ধরে পড়ে থাকত না। রাস্তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ঠিকাদারের ইচ্ছায় চলে অফিসের কার্যক্রম। কোন অর্থ বছরের কাজ কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এসবের কোন নির্দেশনা নাই। যে রাস্তা পড়ে আছে সেগুলো দিয়ে হাটা যাচ্ছে না। যান বহনে পণ্য বহন করা যাচ্ছে না। রাস্তার খোয়া উঁচু হয়ে আছে। প্রায় সময় পণ্য বাহী যান বিকল হয়ে পড়ছে। এখন জমি রোপনের কাজ চলছে। প্রতিদিন গাড়ীতে করে সার, শ্রমিক আনা নেয়া করতে হচ্ছে। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারনে যান নিয়ে যেতে চাচ্ছে না। প্রায় রাস্তায় কয়েকটি করে কার্লভাট নির্মান করা হয়েছে। নির্মানের সময় যত সামান্য সিমেন্ট বালু ও নিম্নমানের নামমাত্র রোড দেয়া হয়েছে। এসব কার্লভাটে মালবাহী যান উঠলেই ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কাজের সময় অফিসের লোকজন থাকেনা। ঠিকাদার ও তাদের মিস্তিরা ইচ্ছেমত কাজ করে। ঠিকাদার ও তার মিস্তিরাই বড় প্রকৌশলী। আবার কোন কিছু বলা হলে শুনেনা উল্টো নানা ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকে। বর্তমানে এখানে এমপি আছে। এসব কাজের বিষয়ে এমপির সরাসরি হস্তক্ষেপ করা একান্ত দরকার।স্থানীয়রা জানান, শুস্ক মৌসুমে কাজ শুরু হয়েছিল। নিয়মিত ভাবে কাজ করলে শুস্ক মৌসুমেই কাজগুলো শেষ হয়ে যেত। এখন বর্ষা মৌসুম, প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে খোয়ার রাস্তা কাদায় রুপ নিয়েছে। প্রায় জায়গায় রাস্তার খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়ে আছে। ঝড় বৃষ্টিতে রাস্তার পাশে থাকা গাছ উপড়ে পড়ে ভয়াবহ গর্তের সৃষ্টি হয়ে থাকলেও কোন গুরুত্ব নেই। মনে হয় এসব দেখভালের কেউ নেই, বলার কোন লোক নেই। প্রায় রাস্তার কাজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শুরু হয়েছিল। দুএকটা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ আট নয় মাস থেকে বছর ধরে পড়ে রয়েছে। অথচ ঠিকাদারেরা প্রায় দিন অফিসে এসে চা পান করছেন।তানোর পৌর এলাকার চাপড়া স্কুল মাঠ থেকে মিরাপাড়া মোড় পর্যন্ত, আমশো গ্রামের, কলমা ইউপির কুজিশহর, আজিজপুর, দরগাডাংগা থেকে নটিপাড়া, স্বপ্নের মোড়, কাশিম বাজার থেকে লবলবি, চন্দনকোঠার রাস্তার কাজ পড়ে রয়েছে। আবার নির্মাণ সামগ্রী চাপড়া স্কুল মাঠ ও বনকেশর স্কুল মাঠে পড়ে রয়েছে। যার কারনে খেলাধুলার চরম সমস্যা হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক ব্যক্তি জানান, প্রায় আটটির মত জিওবি মেন্টেনেন্স কাজের ছয়টিই কিনে করছেন শহরের প্রভাবশালী দলীয় ঠিকাদার মামুন। তাকেসহ অন্যদের একাধিকবার চিঠি ও মৌখিক তাগাদা দেয়া হলেও কোন কর্নপাত করেনা। উল্টো অফিস ঘেরাওসহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে। বাকি ঠিকাদারদেরও একই রকম আচরণ। তাদের একটাই কথা নির্মান সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে এজন্য এখন কোনভাবেই কাজ করা যাবেনা। চাপাচাপি করলে সমস্যা আছে। অতীতে অনেক কাজ হয়েছে। কাজ শুরুর পর নির্মান সামগ্রীর দাম বেড়েছে, কিন্তু এধরণের কথা শুনতে হয়নি। যার কারনে অফিসও চিঠি দিয়ে দায় সারছে। কারন এঅবস্থা শুধু তানোরে না সারা দেশেই এমন অবস্থা চলছে। মব সৃষ্টির ভয়ে কর্তৃপক্ষ কোন কিছুই করতে পারছেনা। তিনি আরো জানান, প্রকৌশলী সঠিক ভাবে তদারকি করলে কাজগুলো শেষ হয়ে যেত। কিন্তু তিনি তেমন ভাবে গুরুত্ব দেয়নি। প্রায় ৬ কোটি টাকার কাজ পড়ে রয়েছে। কাজের মানও খুব একটা ভাল হয়নি। যে অর্থ বছরের কাজ সে অর্থ বছরেই শেষ করতে হবে। কারন অর্থ বছর শেষ হলে হিসেব নিকেশ দিতে হয়। কিন্তু কাজ শেষ হয়েছে বলে অর্থ অন্য একাউন্টে রাখা হয়। এভাবেই নিয়মগুলো অনিয়মে পরিনত হয়েছে।উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার জানান, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কারনে কাজ আপাতত বন্ধ আছে। ঠিকাদারদের চিঠি ও মৌখিক ভাবে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোন অর্থ বছরের কাজ আর প্রায় বছর ধরে কিভাবে পড়ে থাকে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন দেশের পরিস্থিতি ভাল না, ঠিকাদারদের কিছু বলা হলে নানা ধরনের কথাবার্তা শোনাচ্ছেন। যার কারনে বিব্রত। গত অর্থ বছরের কাজ। তাহলে এতদিন কিভাবে পড়ে থাকে জানতে চাইলে একই ধরনের কথা বলে দায় এড়িয়ে যান। তিনি আরো বলেন, কাশিমবাজার থেকে বায়া পর্যন্ত রাস্তার কাজের দুই কিলোমিটার প্রাইম কোর্ড করা হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির সব নষ্ট হয়ে গেছে।যে সব রাস্তা পড়ে রয়েছে সেগুলোর ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। শুধু প্রাইমকোর্ড করে কার্পেটিং করলেই শেষ হয়ে যাবে। চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করার।

Government


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Biggapon

সম্পাদকীয়

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম রায়হান আলী

উপদেষ্টা

উপদেষ্টা: মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার

আইন উপদেষ্টা : ব্যারিস্টার মোঃ মাহফুজুর রহমান (মিলন) সিনিয়র এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট,

আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট রায়হান কবীর,(পি.পি.) জজ কোর্ট রাজশাহী।

বার্তা বিভাগ

বার্তা সম্পাদক: মোঃ হাফিজুল ইসলাম,

ই-মেইল: jonotarsomoy24@gmail.com,

মোবাইলঃ ০১৭৬১-৮৯৯১১৯, ০১৭৬২-৬৯৬২৭০

প্রধান কার্যালয়

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ

রাজশাহী অফিস: রাণীবাজার, অলোকার মোড়, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী।

Theme Created By ThemesDealer.Com