নিজস্ব প্রতিবেদকঃরাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে নতুন রাস্তা নির্মাণে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের (ইউপি)এক নম্বর ওয়ার্ডে চৌপুকুরিয়া-খেসবা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার দুশ’ মিটার নতুন রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭২১ টাকা।স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন রাস্তার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট, বড় পাথর বালু ও প্রয়োজনীয় পানি না দিয়ে সুকনো অবস্থায় রোলার দিয়ে ফিনিশিং দেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর যোগসাজশে ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে।ফলে অফিসের লোক থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো লোক থাকছে না,আবার কখানো কেউ আসলেও এসব অনিয়ম-দুর্নীতি দেখেও না দেখার অভিনয়ে এড়িয়ে চলেছেন। এতে ঠিকাদার নিজের খেয়াল খুশিমতো কাজ করছেন,আর অফিসে বসেই তদারকি করছেন কর্মকর্তা। এদিকে জনগণের প্রশ্ন অফিসের লোক জনের অনুপস্থিতিতে ঠিকাদার এভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাহলে কি অফিসের লোকও জিম্বি সেই ঠিকাদারের কাছে, না নেপথ্যে অদৃশ্য কিছু রয়েছে। রাস্তা নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজের স্থায়ীত্ব ও রাস্তার গুনগত মান নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীযরা জানান,আব্দুল মান্নান নামের আলোচিত ঠিকাদার রাস্তার নির্মাণ কাজ করছে।বিগত আওয়ামী লীগের সময় যিনি মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে আঁতাত করে জেলা-উপজেলার প্রায় সব কাজ হাতিয়ে নিয়েছিলেন। সেই সময় আওয়ামী লীগের এমপির ডোনার ছিলেন। তার দাপটে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল,কোনো ঠিকাদার কিছু বলতে গেলেই সেই ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো ছিলো নিয়মিত ঘটনা। আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এই ঠিকাদার আব্দুল মান্নান। এমনকি জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীরা তার ভয়ে কোনো কিছু বলতে পারতেন না। উল্টো তাদেরকে ভয়-ভীতি এমনকি চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখাতো বলে অভিযোগ রয়েছে।ভয়ভীতি দেখিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে আগের মতো এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদারী কাজ। যে বড় সাইজ পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে সেই পাথর সোনামসজিদ কখানো আমদানি করে নাই। তাহলে এত বড় পাথর কোথা থেকে আসলো জনগণের প্রশ্ন তাহলে কি চোরাপথে কেনা এসব পাথর। স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের খোয়া, পাথর ও বালুর মান সরেজমিনে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তাটি নির্মাণের পর দীর্ঘদিন টেকসই হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ভাঙন, গর্ত ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিতে পারে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়বেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট-পাথর ও বালুর মান যথাযথভাবে যাচাই না করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন ও নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসও বলেন,রাস্তার বেড থেকে প্রাইমকোট পর্যন্ত রন্ধে রন্ধে অনিয়ম।সরেজমিন অনুসন্ধান করা হলে দেখা যাবে সিডিউল অনুযায়ী কোনো কাজ করা হয়নি,কিন্ত্ত ঠিকাদারের ভয়ে আমরা নিরুপায়।তিনি বলেন,উপজেলা প্রকৌশলীর নেপথ্যে মদদে এসব হচ্ছে,তা না হলে তিনি কেনো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনিও সরেজমিন অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,কেউ অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এসব অপপ্রচার করতে পারেন, কাজ নিয়মানুযায়ী হচ্ছে। এবিষয়ে নাচোলে উপজেলা প্রকৌশলী (এলইজিডি) সাদেকুল ইসলাম বলেন কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নাই।তিনি বলেন, আমি ঠিকাদারকে বলে দিচ্ছি যে গুলোর বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরছে সেই গুলোকে সরজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বড় পাথরে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এত বড় পাথর আমাদের সোনামসজিদ পোর্টে নাই তাহলে কিভাবে এত বড় পাথর আসলো তা আমার জানা নেই বড় পাথর গুলো ভেঙে ছোট করে দেবার ব্যবস্থা করছি। আর যেগুলো বড় পাথর দিয়ে কাজ করা হয়েছে সেই গুলোকে তুলে ছোট করে দিবার জন্য বলেছি। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন সড়কের কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।