নিজস্ব প্রতিবেদক :রাজশাহী তানোর উপজেলার ভালো ডাকবাংলা মাঠে তানোর পুলিশিং কমিটির আয়োজনে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মাহমুদুল হাসান।তানোর সাংবাদিক ক্লাবের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব এম রায়হান আলীর সঞ্চালনায়,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর থানার এস আই মাসুদ রানা সহআরো উপস্থিত ছিলেন,বাঁধাইড় ইউপির কৃষক দলের সভাপতি গোলাম রাব্বানী,তানোর থানা ছাত্রদলের আহবায়ক মাসুদ করিমসহ কাবাডি প্রেমীরা গণ্যমান ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।প্রধান রেফারি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল বারী মাস্টার, হাফিজুর রহমান, সোহরাব হোসেন,তানোর উপজেলার ক্রীড়া সম্পাদক এবং ফুটবল খেলোয়ারদের কোর্স আনোয়ার হোসেন ও আইনুর রহমান।পরিশেষে ফাইনাল খেলায় কামারগাকে হারিয়ে চাম্পিওন হয়েছেন তানোর পৌরসভা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান ।গ্রাম বাংলার নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরা এক খেলা কাবাডি, যা কালের বিবর্তনে কাবাডি নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হলেও, আধুনিক সময়ে খেলাটির জনপ্রিয়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে।একসময় গ্রামের মেঠোপথ, বাড়ির আঙিনা বা গাছগাছালিতে ঘেরা একটি ছোট সমতল জায়গাই ছিল হাডুডু খেলার মাঠ। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরের বিভিন্ন সময়ে গ্রামের মানুষ দলবেঁধে এই খেলার আয়োজন করত।১৯৭৩ সালে দেশে কাবাডি ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা পায়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারতের বিরুদ্ধে কাবাডি টেস্ট খেলেছিল। ১৯৮০ সালে এশিয়া কাবাডি প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে খেলাটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। তবে দুঃখজনকভাবে, বর্তমান প্রজন্মের জন্য এই খেলা অনেকটাই অপরিচিত হয়ে পড়েছে।আধুনিক কালের প্রয়োজনীয় রাজশাহী ও অন্যান্য অঞ্চলে এখনও শীতকালে কাবাডি খেলার আয়োজন দেখা যায়। কিন্তু এই আয়োজন শহরের ঝকঝকে পরিবেশে খুবই বিরল। জাতীয় খেলা হিসেবে কাবাডির গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেলেও, খেলাটিকে আরও জনপ্রিয় করতে ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে একাকার হয়ে থাকা এই খেলাকে টিকিয়ে রাখতে সরকার, ক্রীড়া সংস্থা এবং স্থানীয় উদ্যোগের সমন্বয় প্রয়োজন। খেলাটি যদি পুরোপুরি হারিয়ে যায়, তবে গ্রামবাংলার এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়ও হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মকে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এবং খেলাটিকে নতুন প্রাণ দিতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মাহমুদুল হাসান বলেন এ প্রতিবেদককে বলেন প্রতি দলে বারোজন খেলোয়াড় থাকলেও, স্থান সংকুলানের কারণে অনেক সময় ৬-৭ জনের দল নিয়ে খেলা হতো। গ্রামের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলে এই খেলায় মেতে উঠত। উত্তেজনায় ভরা এই খেলার নিয়ম খুবই সহজ—প্রতিপক্ষকে স্পর্শ করে ফিরে আসা এবং ধরা না পড়া। তবে শক্তির সঙ্গে কৌশল এই খেলায় সমান গুরুত্বপূর্ণ।অতীতের গৌরবময় দিন ও বর্তমান অবস্থা একসময় গ্রামে গ্রামে কাবাডি খেলার আয়োজন ছিল একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাতো, প্রতিযোগিতার আকর্ষণীয় পুরস্কার থাকত। কিন্তু আধুনিক সভ্যতা, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং বিভিন্ন নতুন খেলার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী খেলা ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসেছে।পরিশেষে বলেন কাবাডি শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি প্রতীক। তাই, জাতীয় খেলা হিসেবে কাবাডি বা হাডুডু মাদক থেকে মাদক থেক সকলকের মনোযোগী হওয়া দরকার। পুনর্জাগরণে আমাদের সচেষ্ট হওয়া উচিত। এটি বাঁচিয়ে রাখতে পারলে গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি গৌরবময় অধ্যায়ও অক্ষুণ্ণ থাকবে।