বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে তানোর সাংবাদিক ক্লাব পরিবারের নৌকা ভ্রমণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তানোরে নিজ রড-সিমেন্টের দোকানে যাওয়ার পথে নিখোঁজ মিজানুর রহমান বাদশা,উৎকণ্ঠায় পরিবার! তানোরে ইউএনও মাঠতৎপরতায় এলাকাবাসীর প্রশংসায় নাঈমা খান তানোর বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ সাংবাদিকদের নিপীড়নের হাতিয়ার হবে না সাইবার সুরক্ষা আইন রাজশাহী ও নাটোর ২৩ পৌরসভার একটিরও ভাগাড় নেই, বর্জ্য ফেলা হয় যেখানে–সেখানে তানোরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করা হয় তাকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ প্রধানমন্ত্রীর চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি,তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়ক এখন মরণফাঁদ

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে: কেমন আছে বাংলাদেশের আদিবাসী

Reporter Name / ১৩
আপডেট : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :(আদিবাসী লেখক ও উন্নয়নকর্মী স্টেফান সরেন)আজ ২১শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব শান্তি দিবস। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও প্রতিপাদ্য “Invest in Peace: For Everyone, Everywhere, Every Day” এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শান্তি কোনো একদিনের অনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রতিদিনের চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থানের একটি অনন্য দেশ। এখানে বাঙালিদের পাশাপাশি সাঁওতাল, মাহালি, মুন্ডা, কোল, ওঁরাও, পাহাড়িযাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বসবাস করছেন। এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি। তবে এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও সমতা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ। রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার ১ নং কলমা ইউনিয়ন সেই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। এখানে বাঙালি ও বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক সহাবস্থান এই ইউনিয়নের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে এখানে উন্নয়নের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি কিছু মানুষের বঞ্চনা, বৈষম্য এবং সীমিত সুযোগের বাস্তবতাও বিদ্যমান। তাই শান্তি নিয়ে কথা বলতে হলে শুধু সম্প্রীতির প্রশংসা করলেই হবে না; সেই সম্প্রীতিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার ১ নং কলমা ইউনিয়ন ভৌগোলিক অবস্থান, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বহু জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। ইউনিয়নের আয়তন প্রায় ৫১.৬৩ বর্গকিলোমিটার। উত্তরে মুণ্ডুমালা পৌরসভা, দক্ষিণে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা, পূর্বে তালন্দ ইউনিয়ন এবং পশ্চিমে নাচোল উপজেলা অবস্থিত। ইউনিয়নটিতে ৪০টি মৌজা ও ৪১টি গ্রাম রয়েছে। এখানে শিক্ষা, কৃষি, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবনধারা গড়ে উঠেছে। কলমা ইউনিয়নে একটি কলেজ, সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, হাট-বাজার, ডাকঘর, মসজিদ, মন্দির, গির্জা রয়েছে, যা কেবল সেবা প্রদানই করে না বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি করে। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাস অনুসরণ করলেও সামাজিক জীবনে একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। এই ইউনিয়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো— এখানে বাঙালিদের পাশাপাশি সাঁওতাল, মাহালি, মুন্ডা, কোল, পাহাড়িযাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা। বাংলাদেশের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এসব জনগোষ্ঠীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, শ্রম, লোকসংস্কৃতি, হস্তশিল্প ও সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে তারা এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে বাস্তবতার আরও কিছু দিক আছে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা সত্ত্বেও অনেক আদিবাসী পরিবার এখনও আর্থ-সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অনেকের আয়ের প্রধান উৎস দিনমজুরি বা ক্ষুদ্র কৃষিকাজ, যা সারা বছর স্থিতিশীল থাকে না। ফলে দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেক পরিবারের জীবনে প্রভাব ফেলে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত যেতে পারে না। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, যাতায়াত সমস্যা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে অনেক আদিবাসী তরুণ-তরুণী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও বিশেষায়িত চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং জরুরি চিকিৎসার সেবার জন্য অনেক সময় দূরে যেতে হয়। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হয়। ভূমি ও জীবিকার নিরাপত্তাও অনেক পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে জমি, কর্মসংস্থান বা সম্পদে প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা তাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্নও আজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্ম আধুনিক শিক্ষায় এগিয়ে গেলেও মাতৃভাষা ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। এছাড়া সামাজিক পূর্বধারণা ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতাও কিছু মানুষের জীবনে এখনও বাস্তবতা। তবে আশার বিষয় হলো— কলমা ইউনিয়নে বাঙালি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সম্পর্ক এবং একে অপরের উৎসবে অংশগ্রহণের সংস্কৃতি এখনও বিদ্যমান। এই পারস্পরিক আস্থা ও সহমর্মিতাই ভবিষ্যতের শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের সবচেয়ে বড় শক্তি।কলমা ইউনিয়নের সামাজিক বাস্তবতা ও শান্তির সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে Mennonite Central Committee এর অর্থায়নে ন্যাশনাল এজেন্সী ফর গ্রিন রিভ্যুলেশন দ্বারা পরিচালিত শান্তি স্থাপন প্রকল্প পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, ন্যায়বিচার, সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভূক্তি জোরদার করা। কলমা ইউনিয়নের মতো বহুমুখী, বহুজঅতি, ও বহুসংস্কৃতির সমাজে এই প্রকল্প সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, এবং সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সংলাপ, যুব শক্তিকরণ, নারী নেতৃত্ব উন্নয়ন, এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি। প্রকল্পটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং পরিবর্তনের সহ-নেতা হিসেবে গড়ে তোলে। এই উদ্যোগ তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ, দ্বন্দ্ব নিরসন দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে উৎসাহিত করে। কলমা ইউনিয়নের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষকে শান্তি মানে শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়, বরং ন্যায়, সমতা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ হিসেবে বুঝতে সাহায্য করে।
কলমা ইউনিয়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জ, এবং MCC অর্থায়নে NAGR বাস্তবায়িত পিস বিল্ডিং প্রকল্পের কার্যক্রম মিলিয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা স্পষ্ট—শান্তি কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, এটি প্রতিদিনের চর্চা। প্রয়োজন অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, ন্যায়বিচারভিত্তিক সিদ্ধান্ত, এবং এমন এক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের মর্যাদা ও অধিকারে নিরাপদ বোধ করে। সুপারিশ হিসেবে বলা যায়, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে আরও বিনিয়োগ, নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কমিউনিটি উদ্যোগ জোরদার করা। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাদের শিখায়, শান্তি মানে প্রতিদিনের জীবনে ন্যায়, সহমর্মিতা ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা। এভাবেই Invest in Peace বার্তাটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
বিশ্ব শান্তি দিবসের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি শান্তি টেকসই হয় তখনই যখন তা সবার জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন। বাস্তবতা আমাদের শিখায় যে সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতাই শান্তির ভিত্তি। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক অধিকারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের সার্বিক শান্তি আরও মজবুত হয়। পিস বিল্ডিং প্রকল্পের মত উদ্যোগ তরুণদের নেতৃত্ব, নারীদের অংশগ্রহণ ও কমিউনিটি সংলাপকে সামনে আনে। আমাদের করণীয় হলো এই ধরণের উদ্যোগকে টেকসই করা, স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। এভাবেই শান্তি আমাদের প্রতিদিনের কাজ ও সিদ্ধান্তে বাস্তবে রূপ নেয়।উত্তরবঙ্গের সাঁওতাল, মাহালী, পাহাড়ীয়া, কোল, কোডা, মুন্ডা, তুরিদের মতো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার রক্ষা, পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় টিকিয়ে রাখার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই আর্ন্তজাতিক শান্তি দিবসের মূল চেতনা। সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হলেই একটি প্রকৃত শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব। পরিশেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তি নিকেতন কবিতা দিয়ে শেষ করতে চাই -আমাদের শান্তি নিকেতন।সে যে সব তাতে আপন ……..মোদের ভাইয়ের সঙ্গে ভাইকে সে যে করেছে একমন।আমাদের শান্তি নিকেতন।
(স্টেফান সরেন আদিবাসী লেখক ও উন্নয়নকর্মী)
মোবাইল নং-০১৭১৫ ০৮১২৪৭
dirnagr@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Biggapon

সম্পাদকীয়

প্রকাশক ও সম্পাদক: মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম রায়হান আলী

উপদেষ্টা

উপদেষ্টা: মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার

আইন উপদেষ্টা : ব্যারিস্টার মোঃ মাহফুজুর রহমান (মিলন) সিনিয়র এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট,

আইন উপদেষ্টা : এ্যাডভোকেট রায়হান কবীর,(পি.পি.) জজ কোর্ট রাজশাহী।

বার্তা বিভাগ

বার্তা সম্পাদক: মোঃ হাফিজুল ইসলাম,

ই-মেইল: jonotarsomoy24@gmail.com,

মোবাইলঃ ০১৭৬১-৮৯৯১১৯, ০১৭৬২-৬৯৬২৭০

প্রধান কার্যালয়

প্রকাশক ও সম্পাদক
মোহাঃ সোহানুল হক পারভেজ

রাজশাহী অফিস: রাণীবাজার, অলোকার মোড়, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী।

Theme Created By ThemesDealer.Com