নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আইন বহির্ভূতভাবে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এক আবেদনকারী। এদিকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখেরুজ্জামান হান্নানসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ। জানা গেছে, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে (ইউপি) একজন করে মোট নয়জন সার ডিলার নিয়োগ করা হবে। এ জন্য প্রতিটি পৌরসভা ও ইউপি থেকে যাচাই-বাছাই করে তিনজন আবেদন কারীর নাম উপজেলা থেকে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। উপজেলা সার, বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করে তালিকা পাঠাবেন। কিন্তু তানোরে তালিকা পাঠানো নিয়ে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাঠানো তালিকায় আওয়ামী মতাদর্শীদের আধিক্য ও নাশকতা মামলার আসামির নাম রয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) ভবানীপুর গ্রামের আনিসুর রহমানের পুত্র আওয়ামী মতাদর্শী আব্দুর রহিম। মাদারিপুর বাজারে মেসার্স রহমানিয়া ট্রেডার্স নামে কীটনাশকের দোকান রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তানোর থানায় নাশকতার একটি মামলা হয়, যার মামলা নম্বর ১১/২০/২৪। ওই মামলার ৫৩ নম্বর আসামি আব্দুর রহিম। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় তার নামও পাঠানো হয়েছে। অথচ নীতিমালায় বলা হয়েছে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তরা সার ডিলার নিয়োগে অযোগ্য হবে তারা কোনো আবেদন করতে পারবে না।এদিকে একজন আবেদনকারী তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে ডাকযোগে অভিযোগের অনুলিপি কৃষি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ ও কতিপয় বিএনপি নেতার যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে আব্দুর রহিমকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কতিপয় কর্মকর্তার অনিয়ম, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রভাব ও সুপারিশের কারণে ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হলে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির মূল মাস্টার মাইন্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
