নিজস্ব প্রতিবেদক:চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংবাদ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে! যদিও সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত এই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা! সরেজমিন ও প্রত্যক্ষদর্শী এবং পর্যালোচনা করে জানা যায় আরও অভিযোগকারী মো. শহিদুল ইসলাম (৪২)। তাঁর দেওয়া লিখিত অভিযোগে ঘটনার সময়, স্থান, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মো. আনরুল ইসলাম পাতানু (৪৫), মো. ইসমাইল হোসেন (২৭), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে কালু (২৮), মো. জাহাঙ্গীর (৩২) এবং মো. মাসুদ (২২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের কথা বলা হয়েছে। হঠাৎ পরিকল্পিত রাতের বাজারে হঠাৎ সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে! এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে শিবগঞ্জ থানাধীন ৩ নং দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের মফিজ বাজার এলাকায় একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন অভিযোগকারী। এ সময় উল্লেখিত আসামিরাসহ অজ্ঞাত কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে ঘিরে ফেলেন এবং আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, আসামিরা দলবদ্ধভাবে হাতে লাঠি, লাদনা ও লোহার রড নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ১ নম্বর আসামির নির্দেশে অন্যরা তাকে লাঠি, লাদনা ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। শুধু তাই নয় এই গণমাধ্যম কর্মীর উপর লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের অভিযোগ জেটি স্পষ্ট প্রমাণ করে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন। গ্রেপ্তারের দাবি ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে বলা হয়েছে, আরিফুল ইসলাম ওরফে কালু হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে অভিযোগকারীর মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম সৃষ্টি হয় বলেও অভিযোগকারীর দাবি। শুধু মারধরেই হামলা থামেনি—এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে একজন অভিযুক্ত দুই হাত দিয়ে অভিযোগকারীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তখন আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা এজাহারে বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধারের পর অভিযোগকারীকে চিকিৎসার জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জা পরিদর্শন সরজমিন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকট বিষয়টি কনফার্ম হওয়া যায়! এ গণমাধ্যম কর্মীর উপর হামলায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখম হয়েছে বলেও জানা যায়। এজাহারে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, তারা ঘটনাটি দেখেছেন ও শুনেছেন এবং প্রয়োজন হলে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। গণমাধ্যম ও স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, একজন কলম যোদ্ধার উপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আঘাত কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়! স্থানীয় এলাকাবাসী ভুক্তভোগীসহ পরিবারের দাবি অবিলম্বে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ কঠোরতম শাস্তির দাবি করেন। ‘কলমের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা’—উঠছে প্রশ্ন ঘটনাটিকে নিছক ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ আছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ অভিযোগকারী নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে উপস্থাপন করে দাবি করেছেন, সংবাদ সংগ্রহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রেক্ষাপটেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে অভিযোগটি সত্য হলে এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন! অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগে যেসব ঘটনা ও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়! তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখা হবে কারণ গণমাধ্যমের উপর হামলা এটি মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের একটি সরাসরি বহিঃপ্রকাশ।