স্টাফ রিপোর্টার:রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি ওয়াটার পার্কে বেড়াতে গিয়ে ওয়েভ পুলে নেমে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের দিগ্রাম এলাকায় অবস্থিত সাফিনা ওয়াটার পার্কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত স্কুলছাত্রের নাম আবিদ আহানাফ সোয়াদ (১৫)। তিনি বগুড়ার ইকরা মডেল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পিতা মো. আবু হাসিব সোহরাওয়ার্দী। আবিদ বর্তমানে বগুড়া সদর থানার ঠনঠনিয়া এলাকায় বসবাস করলেও তার স্থায়ী ঠিকানা রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার মাছখড়িয়া মাধবপুর সৈয়দপুর গ্রামে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইকরা মডেল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাফিনা ওয়াটার পার্কে যান। দিনভর বিভিন্ন রাইড উপভোগের পর বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওয়েভ পুলে নামেন। এ সময় আবিদ পানিতে লাফ দিলে নাক, বুক ও মাথায় গুরুতর আঘাত পান। একপর্যায়ে তিনি পানিতে তলিয়ে যান।ঘটনাটি টের পেয়ে তার সহপাঠীরা চিৎকার শুরু করলে ওয়াটার পার্ক কর্তৃপক্ষ ও সঙ্গে থাকা শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ গোদাগাড়ী মডেল থানায় আনা হয় এবং পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাফিনা ওয়াটার পার্কে নিরাপত্তা ও তদারকির ব্যপক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ওয়েভ পুল এলাকায় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, পানিতে হাওয়া দেয়ার সময় সতর্কতামূলক নির্দেশনা ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব রয়েছে বলে জানান তারা। তাদের দাবি, দ্রুত ও সঠিকভাবে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।এ বিষয়ে তথ্য নেয়ার জন্য সাফিনা পার্কে সরজমিন গিয়ে মূল দায়িত্বে থাকা অপারেশন পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শরীফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে বার বার ফোন দিয়ে রিসিভ না করাই বক্তব্যে নেয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান বাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত শেষে যদি কারও গাফিলতি বা অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







