নিজস্ব প্রতিবেদক: মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে তানোর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানের হাতে তিনি মনোনয়ন ফরম জমা দেন। এর আগে সকালে তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। একই দিনে বিকেল তিনটার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়েও মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করেন যে, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে যেন সবাই ভোটের মাঠে কাজ করার সুযোগ পায় এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, আরেক প্রার্থী ফ্যামিলি কার্ড ব্যবহার করে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছেন, যা আচরণবিধি বহির্ভূত।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে এবং ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন করেছে স্বৈরাচার সরকার। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের পতন হয়েছে। সুতরাং আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ কঠিন সংকটে পড়বে। এ কারণে যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কালো টাকা, মাস্তানি, গুন্ডামি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে শক্ত হাতে দমনের জন্য তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানান।এ সময় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ বক্স রাখা থাকবে। যেকোনো বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মনোনয়ন ফরম জমা শেষে পরিষদ চত্বরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “আপনারা কঠিন শীত উপেক্ষা করে এখানে এসেছেন—এ জন্য ধন্যবাদ। আমি মাইকে কথা বলতে পারতাম, কিন্তু আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে বলে মুখে কথা বলছি। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এর আগে প্রচারণা করা যাবে না। তবে সাংগঠনিক ও দাওয়াতি কাজ করা যাবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির প্রফেসর আব্দুল খালেক, সেক্রেটারি গোলাম মুর্তজা, জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জামিলুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন, সেক্রেটারি ডিএম আক্কাস আলী, উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম, পাঁচন্দর ইউপি আমির জুয়েল রানা, শিক্ষক নেতা এস এম মিজানুর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি জুয়েল উদ্দিন, আফজাল হোসেন, মাহবুর চৌধুরীসহ সাত ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।







