গানম্যান নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার চেষ্টা, অতঃপর

স্টাফ রিপোর্টার:গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে পার হতে গিয়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছেন জামায়াত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী। ক্যান্টনমেন্টে অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের নিয়ম নেই বলা হলেও সেনাসদস্যের সঙ্গে তর্কাতর্কি করতে দেখা যায় এই প্রার্থীকে। এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এর একটি ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে এসে পৌঁছেছে। খালিদুজ্জামান যখন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন, তখন তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এ সময় প্রার্থীর সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ‘ভাই উনি হলেন এই আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট। ঠিক আছে?’ কোন দলের স্যার? এমন প্রশ্ন রাখেন ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশপথে থাকা সেনাসদস্য। তখন জবাবে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর।

সেনাসদস্য বলেন, ‘বুঝতে পেরেছি স্যার। আমাদের ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে গান নিয়ে…।’

তখন খালিদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান) ক্ষেত্রে তো আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে ফেলতেছেন। আমরা কেন যেতে পারবো না…।’

তখন সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘স্যার এটা তো আমাকে বললে হবে না…।’

প্রার্থী বলেন, ‘আপনারা পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছেন। দিজ ইজ টোটালি, কিছু অফিসারের জন্য সেনাবাহিনী বিতর্কিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে আপনারা বিতর্কিত করছেন। প্রয়োজনে আমি সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবো। এখানে যে দায়িত্বে আছেন আপনি তার সঙ্গে কথা বলবো…। কেন আমার গাড়ি আটকে রাখবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘না না আপনারা তো আটকে রাখছেন। দিস ইজ নট ফেয়ার। টোটালি সেনাবাহিনী এদেশের সম্পদ। এই সম্পদকে আপনারা বিতর্কিত করছেন ব্যক্তি স্বার্থে। ব্যক্তি স্বার্থে সরকারকে ও প্রশাসনকেও আপনারা বিতর্কিত করছেন।’এ সময় ওই সেনাসদস্যকে ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে কল দিতে দেখা যায়।
তখন ওই সেনাসদস্য বলেন, ‘আমাকে একটু সময় দেন স্যার।’

জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘একটা ডিজঅ্যাপোয়েন্টিং সিচুয়েশন করে রেখেছেন সারা দেশে। আপনাদের জন্য তাড়াতাড়ি দেশটা উচ্ছৃঙ্খল হবে। পুরো দেশটা বিশৃঙ্খল করছেন আপনারা।’

এ সময় সেনা সদস্যকে ফোনে বলতে শোনা যায়,….একজন জামায়াত পদপ্রার্থী প্রবেশ করে…বের হবেন। ওনার সঙ্গে গানম্যান আছেন। আমি অ্যালাউ করলাম স্যার।

তখন সেনাসদস্যের উদ্দেশে ওই এমপি পদপ্রার্থী বলেন, ‘তারেক জিয়ার (বিএনপি চেয়ারম্যান) প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম খালিদুজ্জামান বলেন। বলেন, তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী। ঢাকা-১৭ আসনে উনি আমার ক্যান্ডিডেট।’এসময় এমপি পদপ্রার্থী ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে কথা বলতে চান। খালিদুজ্জামান সেখানে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যকে বলেন, আমার সঙ্গে (ঊর্ধ্বতনের) কথা বলিয়ে দেন ‘

এরপর এমপি পদপ্রার্থীর কাছে মোবাইলটি দেয়া হয়। খালিদুজ্জামান ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আসছালামু অলাইকুম, আমি এ এম খালিদুজ্জামান ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী। কিন্তু আপনারাতো তারেক জিয়ার জন্য জিহ্বা দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। আমাকে কেন দেবেন না? হোয়াই নট। আপনি শোনেন। আপনার নাম কী বললেন? পরিকল্পিতভাবে, আমাদের মধ্যে কেওয়াজ সৃষ্টি করছেন আপনারা।  কিছু অফিসার নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সুপরিকল্পিতভাবে ৫ আগস্টের পর আমাদের দেশটাকে পুরো ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি সেনাপ্রধানের কাছে এটা কমপ্লেইন করতে চাই। আপনাদের অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে নিরাপত্তার জন্য দিয়েছে গানম্যান। আবার আপনি আমাকে যেতে দেবেন না কেন?এ সময় একজনকে ফোনের ওপর প্রান্ত থেকে বলতে শোনা যায়, বডি ক্যামেরা অন করো। তখন ওই সেনাসদস্য বলেন, বডি ক্যামেরা অন আছে স্যার’

কথা শেষে খালিদুজ্জামানকে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, তোমরা ভিডিও করো যে, আমাদের গাড়ি যেতে দিচ্ছে না। এ সময় একজন সেনাসদস্য বলেন, ‘সরি স্যার এখানে ভিডিও করা যাবে না।’ফের খালিদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা কেন দেশটাকে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক মানুষ রক্ত দিয়েছে। আর রক্ত নিয়েন না আল্লাহর ওয়াস্তে। সেনাপ্রধান দেশটাকে অত্যন্ত ঐতিহাসিকভাবে যেভাবে রক্ষা করেছেন…।’

উত্তরে এক সেনাসদস্য বলেন, ‘আমিতো আপনাকে যেতে নিষেধ করিনাই। আপনাকে বলেছি আপনি জাস্ট যান স্যার। কিন্তু আমাদের ক্যান্টনমেন্টে গান নিয়ে, অস্ত্র নিয়ে ঢোকা নিষেধ।’

উত্তরে খালিদুজ্জামান বলেন, ‘তাহলে আমাদের গানম্যান কেন দিচ্ছেন।’

সেনাসদস্য বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের জন্য না স্যার। ক্যান্টনমেন্টের জন্য আমরাই নিরাপত্তা দিচ্ছি।’ আরেক সেনাসদস্য বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টে আপনি সেইফ (নিরাপদ)।’

খালিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরাতো পার হয়ে যাবো বলছি।’

সেনাসদস্য বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে যদি কোনো প্রবলেম হয়ে থাকে, দায় দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্ট নেবে।’খালিদুজ্জামান বলেন, ‘পার হয়ে যাওয়ার পর কে দেখবে।’

সেনাসদস্য বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট পার হয়ে যাওয়ার পর আপনার গানম্যান থাকবে স্যার।’

খালিদুজ্জামান বলেন, ‘গানম্যান থাকবে না. আপনার দল পিটাবে, আপনারা অন্য দল দিয়ে পিটাইয়া …আমাদের দেখবে কে।’

সেনাসদস্য বলেন, ‘আমাদের ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে আপনি সেইফ।’

খালিদুজ্জামান বলেন, ‘তারেক জিয়ার সঙ্গে হাজার হাজার অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছেন…।’

সেনাসদস্য বলেন, ‘স্যার এর জবাব এখন দিতে পারছি না।’ খালিদুজ্জামান বলেন, ‘কেন পারবেন না।’

সেনাসদস্য বলেন, ‘আপনার যদি কোনো কমপ্লেইন থাকে! আপনিতো বললেন, কথা বলবেন। স্যারকে বলেন।’জামায়াত প্রার্থীর উদ্দেশে সেনাসদস্য আরও বলেন, ‘আপনিই তো বললেন যে, সেনাপ্রধান স্যারের সঙ্গে কথা বলবেন। ইলেকশান কমিশনের সঙ্গে কথা বলবেন।’

অথরিটি আপনাকে কি বলছে? ওই সেনাসদস্যের কাছে পাশ থেকে প্রশ্ন রাখা হয়। তখন সেনাসদস্য বলেন, বলছে গানম্যান যাওয়া নিষেধ, যেতে গেলে আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে স্যার।’

তখন জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘না না সহযোগিতা না। আপনারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংস করছেন। রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।’

জামায়াত প্রার্থী আরও বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে দেশটাতে কেওয়াজ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। একটা এজেন্ট হিসেবে।’

জামায়াত প্রার্থীর উদ্দেশে সেনাসদস্য বলেন, ‘আপনি হয়ত জানেন কিনা জানি না। ক্যান্টনমেন্টের এই রুলসগুলো আপনাকে ফলো করতে হবে স্যার।’

তখন জামায়াত প্রার্থীর হাতে থাকা ফোনের দিকে ইঙ্গিত করে ওই সেনাসদস্য বলেন, ‘স্যার ক্যামেরাটা মনে হয় অন আছে। ক্যামেরাটা অফ রাখতে হবে। কথা বলেন সমস্যা নেই।’জবাবে জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘মোবাইল হাতেও রাখা যাবে না! শোনেন, এই সময় বুচ্ছেন, সবসময় থাকে না। আপনাদের সময় সবসময় সমান যায় না। বহু বড় বড় অফিসাররা ৫ আগস্টের পর পা ধরেছেন আমাদের কাছে গিয়ে। আমি কিছু বলিনি। আমরা এমন কুকুরের মতো পাচাটা হয়নি। ঠিক আছে?। গোলামীর…। না না আপনারা তো গোলাম হয়ে গেছেন। আপনারা অলরেডি গোলাম হয়ে গেছেন। দেশটাকে বিক্রি করে দিয়েছেন একটি দলের কাছে। পরিকল্পিতভাবে গোলাম হয়ে গেছেন। আমরা এখন কোথায় কমপ্লেইন করবো বলেন। আস্ত্রছাড়া ওপাশে গিয়ে পিটানি খাবো আমি?।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মারামারি হয়েছে আপনাদের গাড়ির সামনে, ঠেকিয়েছেন? প্রশ্ন রাখেন জামায়াত প্রার্থী। জবাবে সেনাসদস্য বলেন, স্যার এটা তো আমাদের…বাইরের। এটা তো সিভিলের…’।জামায়াত প্রার্থী বলেন, ‘এখন আমি বাইরে গিয়ে কী করবো। ব্যাক করে দেন। আমি চলে যাই।’ এরপর ওই জামায়াত প্রার্থী গাড়িতে উঠে চলে যান।

  • Related Posts

    পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন সম্পাদক শামীমা

    জনতার সময় ডেক্স :বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে সিআইডির অতিরিক্ত আইজি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এবং সম্পাদক পদে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগামী এক বছরের…

    দূর্গাপুরে চুরি হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    নিজস্ব প্রতিবেদক দূর্গাপুর: রাজশাহীর দূর্গাপুরে চুরি হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে দূর্গাপুর থানা পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রাম…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    সর্বশেষ

    পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন সম্পাদক শামীমা

    • By
    • 77 views
    পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন সম্পাদক শামীমা

    দূর্গাপুরে চুরি হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    • By
    • 88 views
    দূর্গাপুরে চুরি হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার ১

    তানোরে শতাধিক পদ গুরুত্ব সহকারে পালন করছেন ইউএনও নাইমা খান 

    • By
    • 147 views
    তানোরে শতাধিক পদ গুরুত্ব সহকারে পালন করছেন ইউএনও নাইমা খান 

    তানোরে শতাধিক পদ গুরুত্ব সহকারে পালন করছেন ইউএনও

    • By
    • 106 views
    তানোরে শতাধিক পদ গুরুত্ব সহকারে পালন করছেন ইউএনও

    জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে মাটিচাপা অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    • By
    • 85 views
    জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে মাটিচাপা অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের পোশাক পরে সড়কে ছিনতাইকারী আটক

    • By
    • 108 views
    নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের পোশাক পরে সড়কে ছিনতাইকারী আটক

    Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/jonotars/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481