সারোয়ার সবুজ:- রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ফসলি জমির মূল্যবান টপসয়েল বা উপরিভাগের মাটি কাটার মহোৎসব বন্ধে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (১ মার্চ) দিনভর ও রাতে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল ইসলাম। অভিযান চলাকালে রাজাবাড়ি হাট, গোদাগাড়ীর শেষ সীমানা ঝিলিম বাজারসহ মোট চারটি মাটি কাটার পয়েন্টে হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মাটি কাটায় ব্যবহৃত ৪টি এস্কেভেটর (ভেকু মেশিন) অকেজো করে দেওয়া হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও সরঞ্জামগুলো বিকল করে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে এবং কোথাও কোথাও দিনের বেলাতেও ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন: ”গোদাগাড়ীতে কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা বর্তমানে একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। আমরা এটি প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশলে জমির টপসয়েল নষ্ট করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষির জন্য হুমকিস্বরূপ। ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু এস্কেভেটর অকেজো করার পাশাপাশি অনেককে জেল ও জরিমানা করেছি। জনস্বার্থে ও ফসলি জমি রক্ষায় আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।” উপজেলা প্রশাসনের এমন তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ কৃষক ও সচেতন মহল। তারা আশা করছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে।







