স্টাফ রিপোর্টার,মৌসুমী দাস:রাজশাহীর দুর্গাপুরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় ২০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সুকুমার নামে এক ভ্যানচালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা সার পরে উপস্থিত কৃষকদের কাছে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়। বিক্রির ২০ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উজানখলসী শেখের মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা সারের মধ্যে ১০ বস্তা ডিএপি ও ১০ বস্তা এমওপি সার রয়েছে। পরে উপস্থিত কৃষকদের কাছে প্রতি বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এতে মোট ২০ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়া যায়, যা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে ২০ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভ্যানচালকসহ ভ্যানটি আটক করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় সারগুলো জব্দ করা হয় এবং ভ্যানচালক সুকুমারকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্যানচালক সুকুমার উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের সুশীল চন্দ্রের ছেলে। তিনি জানান, অপরিচিত এক ব্যক্তি দুর্গাপুর বিলের কাছাকাছি ফায়ার সার্ভিস অফিসের একটু সামনে থেকে তাহেরপুর বাজারের তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত ২০ বস্তা সার পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর ভ্যানটি ৮০০ টাকায় ভাড়া করেন। সার নিয়ে উজানখলসী শেখের মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কৃষকদের ভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে। সার বিতরণ ও বিপণনে অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান তাঁরা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) ড. মো. আব্দুল মজিদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার কৃষকদের কাছে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। সার নিয়ে অনিয়ম রোধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।